মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দারুণ জয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনে ভরা বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। মাত্র ৪৫.৫ ওভারে ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয়, ফলে বাংলাদেশ ২০৯ বল বাকি রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শুরুর আগেই স্টেডিয়ামে ছিল চমক। দেশের মাঠে বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক। এর কিছু সময় পর খেলা দেখতে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। স্টেডিয়ামের পরিবেশে ছিল উৎসাহ আর শোরগোল, কিন্তু খেলার শুরু হওয়ার পর মূল আলো কেড়ে নেন নাহিদ রানা। তার বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটাররা একের পর এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হন।
পাকিস্তান টস জিতে ব্যাটিং শুরু করলেও তাদের শুরু ভালো থাকলেও নাহিদ রানা ১০ম ওভারে আক্রমণে এসে খেলার রঙই বদলে দেন। তার প্রথম ওভারের মধ্যেই আসে প্রথম উইকেট। এরপর চলতি পাঁচ ওভার ধরে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে, শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে অলআউট হয় তারা। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশি ব্যাটার তানজিদ হাসান ঝড়ো ফিফটিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

নাহিদ রানার পারফরম্যান্স ছিল নজিরবিহীন। তার আগের পাঁচ ওয়ানডেতে মোট উইকেট ছিল মাত্র পাঁচটি। এই ম্যাচে মাত্র ৭ ওভারে ২৪ রান খরচে ৫ উইকেট নেন তিনি। এটি বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিং রেকর্ড। এর আগে এই কীর্তি করেছিল মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি ৫/৭৫ রেকর্ড করেছিলেন।
পাকিস্তানের চার অভিষিক্ত ব্যাটারও নাজুক অবস্থায় পড়েন। সাহিবজাদা ফারহান এবং মাজ সাদাকাতের শুরু ভালো থাকলেও নাহিদের তীব্র বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারান। মোহাম্মাদ রিজওয়ান ছিলেন পাকিস্তানের প্রধান ভরসা, কিন্তু নাহিদ তার সেরা ডেলিভারিতে রিজওয়ানকে ফেরান। পরের ওভারে শর্ট বল দিয়ে সালমান আলি আগাকেও আউট করেন।
নাহিদের ধারাবাহিক বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটিংকে বিপর্যস্ত করে। টানা ছয় ওভার পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানকে চাপে রাখেন। এরপর এক ওভার বিশ্রামের পর মিরাজ ও মুস্তাফিজের সঙ্গে মিলিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয় ১১৪ রানে। এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান, যা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ১৬১ রানের আগে ছিল সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশের রান তাড়া শুরু হয় দ্রুত। সাইফ হাসান দ্রুত আউট হলেও তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তের দারুণ ব্যাটিংয়ে দল রান তুলতে থাকে। শান্ত ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন, তবে ৩২ বলেই ফিফটি করা তানজিদ অপরাজিত থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০৯ বল বাকি রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ে বাংলাদেশের তরুণ বোলার নাহিদ রানা ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচ হন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৩০.৪ ওভারে ১১৪ (সাহিবজাদা ২৭, সাদাকাত ১৮, শামিল ৪, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, তালাত ৪, সামাদ ০, ফাহিম ৩৭, আফ্রিদি ৪, ওয়াসিম ০, আবরার ০*; তাসকিন ৭-০-২৯-১, মুস্তাফিজ ৪.৪-০-১৮-১, মিরাজ ১০-০-২৯-৩, নাহিদ ৭-০-২৪-৫, রিশাদ ২-০-১০-০)।
বাংলাদেশ: ১৫.১ ওভারে ১১৫/২ (সাইফ ৪, তানজিদ ৬৭*, শান্ত ২৭, লিটন ৩*; আফ্রিদি ৫-১-৩৫-১, ফাহিম ২-০-১৯-০, ওয়াসিম ৩.১-০-২৪-১, আবরার ৩-০-২৫-০, সালমান ২-০-১২-০)।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাহিদ রানা।