আগামী আইসিসি ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল গুছানোর লক্ষ্য নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বুধবার ঢাকার শের-এ-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হওয়ায় দুই দলই এটিকে নতুন শুরুর সুযোগ হিসেবে দেখছে।
পাকিস্তান এই সিরিজে বেশ কিছু নতুন মুখ নিয়ে এসেছে। ১৫ সদস্যের দলে রয়েছে ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটার, যাদের বেশিরভাগই টপ অর্ডারের ব্যাটার। সাম্প্রতিক টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রায় তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে। এই সময়ের মধ্যে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। ফলে এই সিরিজকে ঘিরে দলের ভেতরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
নতুন মিডল অর্ডার নিয়ে বাংলাদেশের পরীক্ষা
বাংলাদেশ দলে এবার মিডল অর্ডারে নতুন সমন্বয় দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন। কোচিং স্টাফের ধারণা, স্পিন বোলিং মোকাবিলায় লিটনের দক্ষতা দলকে মাঝের ওভারগুলোতে স্থিতি এনে দিতে পারে।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে দায়িত্ব থাকবে ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের ওপর। তারা দ্রুতগতির সূচনা এনে দিলে মাঝের সারিতে লিটন, আফিফ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
দলের নেতৃত্বে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ অলরাউন্ডার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের শক্তি মূলত পেস আক্রমণ। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং রিশাদ হোসেন মিলে অধিকাংশ ওভার সামলাতে পারেন। এছাড়া স্পিন বিভাগে মিরাজ ও তানভীর ইসলাম থাকবেন। প্রয়োজনে পেস আক্রমণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছেন শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
পাকিস্তানের দলে নতুন মুখের ভিড়
পাকিস্তানের স্কোয়াডে ছয়জন নতুন ক্রিকেটার থাকায় দলটি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টপ অর্ডারে সম্ভাব্যভাবে খেলবেন সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত এবং শামিল হুসাইন। এর মধ্যে ফারহান সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছিলেন।
টপ অর্ডারের অনভিজ্ঞতার কারণে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বাড়বে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আঘার ওপর।
দলের নেতৃত্বে থাকা শাহীন শাহ আফ্রিদি নতুন বলে আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন। তাকে সহায়তা করবেন হারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। স্পিন আক্রমণে তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও আবরার আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
মিরপুরের উইকেটে স্পিনের আধিপত্য
মিরপুরের উইকেটে স্পিনারদের ভূমিকা সাধারণত বেশি থাকে। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে এখানে মোট বোলিংয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই স্পিনে করা হয়েছিল। এক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো ৫০ ওভারই স্পিনে করেছিল। তবে দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, এবার উইকেট কিছুটা উন্নত এবং ব্যাটিংয়ের জন্যও সহায়ক হতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন দুপুরের দিকে অকাল বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান
পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ৩–০ ব্যবধানে জিতেছিল। তবে গত দুই বছরে পাকিস্তান পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে, যেখানে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটি।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, বিশ্বকাপ মিস করার পরও দলের ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ রয়েছে এবং খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য উচ্ছ্বসিত।
অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে পেস বোলিংয়ের দল এবং এই সিরিজেও পেস আক্রমণের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হবে।