বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে আবারও মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে এ চাপ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিকভাবে গম, ভোজ্যতেল ও মাংসসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ, জানুয়ারিতে যা ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।
গত তিন বছর ধরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য প্রকৃত মূল্যস্ফীতির চিত্র নয়। তার মতে, বাস্তবে মূল্যস্ফীতি আরও বেশি।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বাড়বে, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকি ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
বিবিএস জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার ১৫৪টি হাটবাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতির হার প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ।