সর্বশেষ

নিয়মভঙ্গের অভিযোগ

বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও ডাকসু ভবনে ৯ লাখ টাকায় এসি বসাচ্ছেন ভিসি

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৩৩
বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও ডাকসু ভবনে ৯ লাখ টাকায় এসি বসাচ্ছেন ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি ও আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ভবন বা গবেষণা অফিস ছাড়া অন্যত্র এসি স্থাপন অনুমোদিত নয়, তবু ডাকসু নেতাদের চাপে নিয়ম ভেঙে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রশাসন এই প্রস্তাব নাকচ করলেও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বারবার ফোন করে চাপ সৃষ্টি করেন। শেষ পর্যন্ত উপাচার্য ব্যক্তিগতভাবে ফাইল অনুমোদন করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “আমি দেশে না থাকাকালীন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোন নিয়মে এটা হয়েছে জানি না। আমি থাকলে প্রশ্ন তুলতাম—বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকটের মধ্যে এটা কিভাবে সম্ভব?”

 

এদিকে শিক্ষা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি কেবল রুটিন দায়িত্ব হিসেবে ফাইলটি ফরোয়ার্ড করেছেন। “আমি অনুমোদন দিইনি, ভিসিই অনুমোদন দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি—এসি বিলাসিতা, যখন শিক্ষার্থীর মৌলিক চাহিদা পূরণই সম্ভব হচ্ছে না,” বলেন তিনি।

 

সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী (পিপিআর ৯৭ ধারা), জরুরি ও দুর্লভ পণ্য ছাড়া অন্য সব ক্রয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ডাকসু ভবনের এই এসিগুলো ‘জরুরি পণ্য’ দেখিয়ে সরাসরি ক্রয় (DPM) পদ্ধতিতে কেনা হচ্ছে। এতে ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, “ডাকসুর অনুরোধে প্রশাসনের অনুমোদনে ‘গ্রি’ কোম্পানির ৯টি এসি বসানো হচ্ছে। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় কাজ দ্রুত শেষ হবে।”

 

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ডাকসুর জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে, যার মধ্যে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনে ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। শুধু এসি বাবদ ব্যয় হচ্ছে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা, যা ডাকসুর মোট বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

 

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেছেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে কাজের গতিশীলতা চেয়েছি। এসি বিলাসিতা হলে না দিলেই পারে। কিন্তু ভবনের পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি।” অন্যদিকে ভিপি কায়েম চাপের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা শুধু ওয়ার্কিং এনভায়রনমেন্ট চেয়েছি, এসি নিয়ে আলাদা কিছু বলিনি।”

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, আবাসন ও শিক্ষার্থী কল্যাণে বাজেট ঘাটতি থাকা অবস্থায় ডাকসু ভবনে এসি বসানো অগ্রাধিকারের বিকৃতি। এটি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও নৈতিকতার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

আত্মীয় নিয়োগের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদকের হানা

ভিসি-প্রোভিসিদের ভয়াবহ দুর্নীতি আত্মীয় নিয়োগের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুদকের হানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলে ফেলা হলো সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা ব্যানার

সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলে ফেলা হলো সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা ব্যানার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষক হেনস্তার পরও নীরব প্রশাসন

‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ নাম দিয়ে শিবিরের মব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক শিক্ষক হেনস্তার পরও নীরব প্রশাসন

ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রীদের ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’

সিদ্ধান্ত কে দিলো শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রীদের ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’

এইচএসসি নিয়ে ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা

এইচএসসি নিয়ে ‘অতীব জরুরি’ নির্দেশনা

নেপথ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য

প্রতিবছর পাঠ্যবই বিলম্বে ছাপা নেপথ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার গাইড বাণিজ্য

অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় শিক্ষা খাত

বছর শেষে বাংলাদেশ অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় শিক্ষা খাত

প্রাথমিকে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, অসন্তোষ-অস্থিরতার শঙ্কা

প্রাথমিকে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, অসন্তোষ-অস্থিরতার শঙ্কা