ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের অন্তত ২৬ জেলায় সহিংসতার ঘটনায় ৭ জন নিহত ও প্রায় ৩৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনের তিন দিন পর সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য তুলে ধরে ‘তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জে জসিম উদ্দিন এবং বাগেরহাটে ওসমান সরদার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় সহিংসতায় নিহত হয়েছেন। ভোলায় আব্দুর রহিম নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী নিহত হন। লক্ষ্মীপুরে রিকশাচালক মো. সোহাগ মিজি নির্বাচনের রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর একটি পরিত্যক্ত বালুর মাঠে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়মনসিংহে এক শিশুকে তার বাবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জেরে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনাও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোলা, নাটোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল, গাজীপুর, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, গাইবান্ধা, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, পঞ্চগড়, নরসিংদী, লালমনিরহাট ও ঢাকার কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এমএসএফ রাষ্ট্রের কাছে সহিংসতা বন্ধে ‘দ্রুত ও কার্যকর’ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘দায়িত্বশীল ও জরুরি’ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান করেছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে এমএসএফ।