রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হচ্ছে আগামী ১২ জানুয়ারি ২০২৬। মামলার মূল শুনানিতে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করবে। এ শুনানিকে রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ফলে সাত লাখের বেশি মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘের গণহত্যা সনদের আওতায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এটি ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার নয়, বরং রাষ্ট্র হিসেবে গণহত্যার দায় নির্ধারণের মামলা।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আইসিজে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিলেও মিয়ানমার তা মানেনি বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, বৈষম্য ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে রোহিঙ্গারা নতুন করে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও জোরপূর্বক নিয়োগের মতো গুরুতর অপরাধ ঘটছে।
এই মামলায় ১১টি দেশ গাম্বিয়ার পক্ষে হস্তক্ষেপ করলেও তারা মৌখিক শুনানিতে অংশ নেবে না। তবে তাদের লিখিত বক্তব্যে গণহত্যার অভিপ্রায়, যৌন সহিংসতার ভূমিকা এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আর্জেন্টিনার আদালতে মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইংসহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইসিজে, আইসিসি ও সার্বজনীন বিচারব্যবস্থার সব পথই কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
রোহিঙ্গা নেতারা মনে করছেন, এই শুনানি শুধু অতীতের অপরাধের বিচার নয়, বরং ভবিষ্যতে গণহত্যা রোধের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি একটি শক্ত বার্তা।