হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ শিথিল করলেও বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এখনও পার হতে পারছে না। বর্তমানে ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের চারটি জাহাজ আটকে আছে, যেগুলোর সব নাবিক-ক্রু বাংলাদেশি। এছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি বিদেশি মালিকানাধীন জাহাজে কর্মরত আছেন বাংলাদেশি নাবিকরা। সব মিলিয়ে মোট ৯টি জাহাজে ১৪৬ জন বাংলাদেশি নাবিক-ক্রু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানিয়েছে, তারা পাঁচ দিন আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে এবং এর অনুলিপি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তবে এখনও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বিএসসির মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ নামের জাহাজটি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছানোর পর আটকে গেছে। একাধিকবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাহাজটিকে নিরাপদে পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগরে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের পূর্বনির্ধারিত জাহাজও আটকে পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সাধারণত প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি আমদানি করে। চলতি মার্চে ১৬টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ১০টি। একইভাবে ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র চারটি। ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে নির্ধারিত চারটি এলএনজি জাহাজ এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এসব জাহাজে করে প্রায় দুই লাখ ৪৫ হাজার টন এলএনজি আসার কথা ছিল। যুদ্ধ শুরুর আগে যে চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। তবে নতুন করে আসার কথা থাকা জাহাজগুলো আটকে আছে।