নিউইয়র্ক শহরের ইঁদুরদের নিয়ে আড়াই শতাধিক পৃষ্ঠার বই লেখা হয়েছে। ঢাকা শহরের ইঁদুরদের নিয়ে হয় নাই। এই আফসোস কোথায় রাখে? বালিকার কাছে রাখতে চেয়েছিল। বালিকা ইঁদুরের মর্ম বুঝে নাই। বিড়াল নিয়ে ঘুমায়। বিড়াল না বেড়াল? শ্রোয়েডিংগারকে কল দিয়ে পায় নাই।
শ্রোয়েডিংগারের সেক্রেটারি বলেছে, নিরুৎপাত অবকাশ যাপনের অভিপ্রায়ে শ্রোয়েডিংগার মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে বহুদূরে অবস্থান করছেন।—হতে পারে আমাজনের জঙ্গলে। কিন্তু সেটা কি নিরুৎপাত হবে? জঙ্গলের নাম আমাজন। জলে পিরানহা ডাঙায় পয়জন ডার্ট ব্যাঙ।
বিড়াল বা বেড়াল আছে কি নাই চ্যাট জিপিটি বলে দিতে পারে। কিন্তু চ্যাট জিপিটি হারামজাদার সঙ্গে মকারি করতে এখন ভালো লাগবে না বলে মনে করা যাচ্ছে। আসলে শ্রোয়েডিংগারের উপস্থিতি ছাড়া বিড়াল বা বেড়াল বিষয়ে যে কোনো ধরণের আলোচনাই পীড়াদায়ক।
বাংলার শ্রোয়েডিঙ্গার কে?
সুবিনয় মুস্তফী একমেবাদ্বিতীয়ম।
সন্দেহ নাই শ্রোয়েডিংগারের চেয়েও ডেনজারাস আদমী সুবিনয় মুস্তফী। শুধু বিড়াল বা বেড়াল না, বিড়াল বা বেড়াল ও ইঁদুর নিয়ে তার কারবার। বহুবার বিড়াল বা বেড়াল ও বিড়াল বা বেড়ালের মুখে ধরা ইঁদুরকে সিমুলটিনিয়াসলি হাসিয়েছে যুবা। অতএব হতোদ্যম হওয়ার কিছু নাই। ঢাকা শহরের ইঁদুরদের নিয়ে চিন্তিত শতাব্দী জাহিদ র্যাট লাভার হলো। মানুষ হয় পেট লাভার, সে শতাব্দী জাহিদ বলে সে হলো র্যাট লাভার। হোক। জয়স্তু।
র্যাট লাভারের মুরিদ কাকা। সে আর্টিস্ট। ফব-বাদী ফটোকার্ড বানিয়ে ফেসবুকে ছাড়ল :
গুরুর কথা কী কবো
পূণর্মূষিক ভব!
ফটোকার্ড ভাইরাল হলো।
শতাব্দী জাহিদ ভাইরাল হলো।
দেশ সেরা দৈনিক গার্ডিয়ান অ্যানজেল ‘মূষিকমানব’ উপাধি দিল শতাব্দী জাহিদকে। অনলাইন নিউজপোর্টাল ঘুঘু ডটকম নিউজ দিল, মূষিকমানবের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে ঢাকায় আসছেন রবার্ট সুলিভান। তবে রবার্ট সুলিভান কে এই নিউজ তারা দিল না। জল্পনা কল্পনা চলল। রবার্ট সুলিভান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি হতে পারেন। রবার্ট সুলিভান জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত হতে পারেন। কচু হতে পারেন, ঘেঁচু হতে পারেন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল তাজা ডটকম নিউজ দিল, নোবেল শান্তি পুরস্কারের শর্টলিস্টে নাম উঠেছে শতাব্দী জাহিদের।
শতাব্দী জাহিদ কী বলে?
দাদাবাদী হাসনাত ফোন করে বলল, ‘ভাই শুনলাম ইন্দুর প্রতিপালক হইছেন?’
‘ইন্দুর না ব্যাটা, মূষিক ক আগে। মূল্য সংযোজন কর মূসক না মুষিক।’
‘অ, মূষিক।’
‘অ মূষিক। এত সহজ ব্যাটা? ইন্দুর না উন্দুর না আখু না, মূষিক। এই মেটামরফসিস এত সহজ?’
‘সহজ আমি বলি নাই, ভাই!’
‘চুপ কর। পাঠ কর মূষিকমানবের নামে। শিবকালী ভট্টাচার্য মশাইয়ের ‘জীবজন্তুর নামরহস্য’ বই থেকে পাঠ কর। পৃষ্ঠা ৩১ থেকে পাঠ কর।’
দাদাবাদী হাসনাত শিবকালী ভট্টাচার্যের ‘জীবজন্তুর নামরহস্য’ বইটা জোগাড় করল এবং মূষিকমানবের নামে ৩১ পৃষ্ঠা থেকে পাঠ করল :
মুষ্ ধাতুর উত্তরে কিকন প্রত্যয় করে মূষিক শব্দ নিষ্পন্ন হয়েছে। এর অর্থ দল বেঁধে লুট করা। মূষিকরা প্রকৃতই লুট করে এবং দল বেঁধেই করে তাই এরা মূষিক। মহাভারতের ১২।২।৫ শ্লোকে মূষিকের বানান নীলকণ্ঠের টীকায় দীর্ঘ ...প:পৃ:দ্র:...উকার হয়েছে। অর্থাৎ ‘মূষিক’ করা হয়েছে। ওখানে মূষ ধাতুর আরও বিচিত্র অর্থ করে তিনি বলেছেন, এরা লুট তো করেই, পলায়ণ করার আগেই ‘রথ্যা’ অর্থাৎ এভিনিউ (পথ) করে রাখে। তাই ধরে দ্রুত পলায়ন করে।
বোঝা গেছে?
বোঝা গেছে।
ওরে আমার ভাই, শতাব্দী জাহিদ, তোর মূষিকদের নিয়ে বসে থাক তুই।
শতাব্দী জাহিদ বসে আছে। বসে আছে না, দাঁড়িয়ে আছে। তার পায়ের কাছে একদল মূষিক পড়ে আছে না মরে আছে বোঝা যাচ্ছে না। শ্রোয়েডিংগার অবকাশ যাপন করে ফিরেন নাই। শাদা মাইক্রোবাস ভুয়োদর্শী যুবা সুবিনয় মুস্তফীকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। রবার্ট সুলিভানের বইটা পড়বে বলে জোগাড় করেছিল শতাব্দী জাহিদ—‘র্যাটস : আ ইয়ার উইথ নিউ ইয়র্ক’স মোস্ট অন ওয়ান্টেড হ্যাবিট্যান্টস’। সেই বইটা কুটি কুটি করে খেয়েছে, মাতাল হয়ে আছে এখন শতাব্দী জাহিদের বশংবদ মূষিকগণ। জয়স্তু।
চিন্তার কিছু নাই তারা মুষিক।
তবে র্যাট লাভার শতাব্দী জাহিদের স্টোরি এই দন্ডে ব্যান করা হলো।
১১.০২.২৬