ভারতের আধার কার্ড ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়ে ভাবছে সরকার। নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য ও সরকারি সেবা একটি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নাগরিক সেবা সহজ ও সমন্বিত করতে একটি সমন্বিত পরিচয় ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই ভারতের আধার কার্ড ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে বাংলাদেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য ও সরকারি সেবা এক জায়গায় সংযুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকার এখন ঋণনির্ভর উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। এ লক্ষ্যেই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, “চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। ঋণের পরিবর্তে এখন থেকে বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিতুমীর। তিনি বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতে যেসব চুক্তি করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশের জন্য সমান সুবিধাজনক ছিল না। ভবিষ্যতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে জ্বালানি খাতে চুক্তি করার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আগের সরকারের চুক্তির পুনরাবৃত্তি না করে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে—এমন শর্তেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হবে।