অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ সময়ে এসে একাধিক বিতর্কিত প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও এগুলো বাস্তবায়নের দায় ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-কমিশন, মন্ত্রী ও আমলাদের জন্য বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা চুক্তি, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সমরাস্ত্র জোন তৈরির ঘোষণা, র্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া। এছাড়া গণমাধ্যম আইন ও কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ২০তম গ্রেডে ১৪৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যোগ হলে একজনের মোট বেতন ছাড়াতে পারে ৩ লাখ টাকা। এতে সরকারি ব্যয় আরও প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বাড়বে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তারা কেবল প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে, বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করাও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এই গেজেট প্রকাশের ফলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আইনবিদরা আশঙ্কা করছেন।
মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় ৯ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্পও সমালোচিত হয়েছে। ৭৮৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে জনস্বার্থের বাইরে আমলাতান্ত্রিক সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, মাত্র তিন দিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়াটা সরকারের বিদায়ী পরিহাস।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৩২ হাজার ১৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২৯১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে সরকারের পছন্দের ব্যক্তিকে খুশি করতেই বেশির ভাগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া চীনের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের চুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তও বিতর্কিত হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা নেই এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।