সর্বশেষ

জ্বালানি সংকটে চাপে সরবরাহ ব্যবস্থা

সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ২১:০২
সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় আশাবাদী অবস্থান নিলেও মাঠপর্যায়ে ভোগ্যপণ্য ও শিল্প খাতে চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্পট মার্কেট থেকে বেশি দাম দিয়ে এলএনজি কিনছে সরকার। এপ্রিলের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজির সব কার্গো সরবরাহের নিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

 

যদিও এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, জ্বালানির জন্য আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশগুলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কিছু লক্ষণ দেখালেও আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা এবং দুর্বল বৈদেশিক অবস্থানের কারণে ‘অধিক ঝুঁকিতে’ রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নে এসব দেশ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

 

বর্তমানে এলএনজি কিনতে বেশি দাম দিতে হলেও সরকার সরবরাহ সংকট সামাল দেয়াকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্যাস খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকে কার্গোপ্রতি এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ গড়ে প্রায় ২২ ডলারে কেনা হচ্ছে, যা যুদ্ধের আগে সাড়ে ৯ থেকে ১০ ডলারে কেনা হতো। অর্থাৎ গ্যাসের সরবরাহ ঠিক রাখতে এখন দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি কেনা হচ্ছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন এলএনজি কার্গো কেনা হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি দামে। সেই হিসেবে ভর্তুকিও আগের অর্থবছরে চেয়ে বেড়ে যাবে।’ কী পরিমাণ ভর্তুকি বাড়াতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ অর্থবছরে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি লাগবে।’

 

জ্বালানি নিয়ে সরকারের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে। আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে ২৪ মার্চ বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি আমদানির জন্য যে বাড়তি অর্থের দরকার পড়বে, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

 

দেশের ৭০-৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয় মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। আর পরিশোধিত তেল কেনা হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ২০২৬ সালজুড়ে তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের বেশি থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ। গতকাল এক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে সংস্থাটির গবেষণা সূত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আগে জ্বালানি তেল সাধারণত ১৫ দিনের মজুদ রাখা হতো। এখন তা এক মাসের মতো আছে। এ মজুদ আরো বড় করার চেষ্টা হচ্ছে।

 

জ্বালানি তেলের জন্য সরকারের ভর্তুকির বিষয়ে ২৮ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) জানান, প্রতিদিন সরকার জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।

 

কিন্তু সংকট মোকাবেলা সরকারের এত সব উদ্যোগের মধ্যেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন পরিস্থিতি। ফিলিং স্টেশনের বাইরে যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষমাণ থাকার পরও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিদিনই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, সুযোগ পেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এক শ্রেণীর অসাধু পাম্প কর্মী। অভিযোগ উঠছে যে অনেক পেট্রল পাম্পের মালিক তেলের দাম বাড়তে পারে—এ চিন্তা থেকে তেল বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। পাওয়া যাচ্ছে মজুদদারির অভিযোগও।

 

এর মধ্যে পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় দেশের ভোগ্যপণ্য ও শিল্প খাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বিশেষ করে নদীপথে জাহাজে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কারখানায় কাঁচামাল পৌঁছানো, উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। আবার পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য জ্বালানির অভাবে বাজারে পণ্য সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ধীরগতি তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

 

উদ্যোক্তা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি সংকট উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি করছে কয়েক স্তরে। আমদানি করা কাঁচামাল বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজে তোলা হলেও সেগুলো ডিজেলের অভাবে নদীপথ ব্যবহার করে কারখানায় যেতে পারছে না সময়মতো। এতে কাঁচামাল খালাসে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে, ফলে মাদার ভেসেলের অবস্থানের সময় দীর্ঘ হচ্ছে।

 

উৎপাদিত পণ্য কারখানা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে কোম্পানিগুলো নির্ভর করে ট্রাকের ওপর। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য সরবরাহেও অসুবিধায় পড়ছে। বিশেষত জেলা শহর পর্যায়ে এ সমস্যা বেশি। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে তা পণ্যের উৎপাদন খরচ ও দামে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলও বাধাগ্রস্ত হবে। খুচরা বাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে তা ভোক্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা তাদের।

 

ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত তৈরি করেছে চলমান জ্বালানি সংকট। নিজেদের পণ্য পরিবহনে গ্রুপটির সাড়ে তিন হাজার ট্রিপ প্রয়োজন হয়। নিজস্ব পরিবহনের পাশাপাশি এজন্য তারা পরিবহন ভাড়া করেন। বর্তমানে এ প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ি ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য সরবরাহে সমস্যার কথা জানিয়েছেন গ্রুপটির বিজনেস ডিরেক্টর মো. মোফাচ্ছেল হক। পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেল সংকট আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি মিলছে। ঢাকার বাইরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কারখানা থেকে পণ্য ডিপো পর্যন্ত কোনোভাবে পরিবহন করা গেলেও ডিপো থেকে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বাজারে পৌঁছতে বড় সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।’

 

দেশে আরেকটি বড় ভোগপণ্য উৎপাদক গ্রুপ মেঘনা। এ গ্রুপটিও জলপথে কাঁচামাল কারখানায় পৌছাতে সংকটে পড়ছে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের (এমজিআই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে নদীপথে পাঁচ হাজার টন পণ্য আনতে যে পরিমাণ ডিজেল লাগে, সড়কপথে আনলে তার প্রায় ১০ গুণ বেশি লাগবে। কয়েক বছর ধরে আমরা মাসে গড়ে ২৫ লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করছি। পদ্মা ও মেঘনা অয়েলে দুই সপ্তাহ ধরে নয় লাখ লিটার তেলের জন্য পে-অর্ডার দেয়া থাকলেও সরবরাহ মেলেনি। আমরা বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় ১৫-২০ শতাংশ কম নিতেও রাজি আছি। আমাদের উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশই নিত্য ভোগ্যপণ্য। জ্বালানি সরবরাহ এভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অবস্থিত কারখানা থেকে মেঘনা গ্রুপের উৎপাদিত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহস্রাধিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। তাই এ গ্রুপের জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিপিসিকে অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠি দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

 

পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জ্বালানির অভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। আমাদের পণ্য পরিবহনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ট্রাক ব্যবহৃত হয়। এসব ট্রাকের জ্বালানি সাধারণত ডিপো থেকে সংগ্রহ করা হলেও তেল না পাওয়ায় অনেক ট্রাক চালানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

 

জ্বালানি সংকটে কাঁচামাল পরিবহনে বড় সমস্যায় পড়েছে শিল্প খাতও। প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না পেয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনে সমস্যায় পড়েছে আকিজ বশির গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জাহাজে পরিবহন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পণ্য পরিবহনে ভাড়ায়ও দরকারি জাহাজ জোগাড় করা যাচ্ছে না। বহির্নোঙরে দুটি মাদার ভেসেল থেকে এ গ্রুপের আমদানি করা কাঁচামাল ধীরগতিতে খালাস হচ্ছে।

 

আকিজ বশির গ্রুপের হেড অব গ্রুপ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল জানান, ‘নদীপথে রোজার আগে জাহাজ সংকট ছিল, এখন মূল সংকট জ্বালানি। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেয়ে কাঁচামাল লোড করেও জাহাজ গন্তব্যে পাঠানো যাচ্ছে না। আমাদের নিজস্ব পাঁচটি জাহাজ রয়েছে, এ জাহাজগুলো পরিচালনা করতে যে পরিমাণ ডিজেল দরকার, তার ৪০ শতাংশের মতো পাচ্ছি না। আমাদের যে পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়, তাতে নিজেদের জাহাজ ছাড়াও বাইরে থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাহাজ ভাড়া করতে হয়। এখন সেটাও পারা যাচ্ছে না। মাদার ভেসেল থেকে সময়মতো পণ্য খালাস না হলে ড্যামারেজ বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে ফ্রেইট খরচও বাড়বে। এরই মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আসা জাহাজে প্রতি টনে ৬ থেকে ১০ ডলার ভাড়া বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়লে এ ব্যয় আরো বাড়বে।’

 

ডিজেলের অভাবে বড় প্রভাব পড়েছে আমদানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটার জাহাজ চলাচলে। লাইটার জাহাজ জ্বালানি সংকটে পড়ায় মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করেও সংকট পিছু ছাড়ছে না। মডার্ন মেরিন-২ নামের একটি লাইটার জাহাজ তিন হাজার লিটার চাহিদার বিপরীতে সংগ্রহ করতে পেরেছে ১ হাজার লিটার ডিজেল। ফলে বাকি জ্বালানি না পাওয়া পর্যন্ত কুতুবদিয়ায় মাদার ভেসেল ‘এমভি এছফ গ্লোরি’ থেকে খাদ্যশস্য বোঝাই করেও তাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে।

 

জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আগে ৫০ হাজার টনের একটি মাদার ভেসেল দুই সপ্তাহে খালাস হতো। এখন সময় লাগছে ২০-২২ দিন। এতে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকাল বাড়ছে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। যতদিন বাকি জ্বালানি না পাই ততদিন কুতুবদিয়ায় খাদ্যশস্য লোড করে বসে থাকতে হবে আমাদের। নদীপথে কুতুবদিয়া থেকে আমাদের জাহাজে করে গম পরিবহন হবে নারায়ণগঞ্জে। একে তো জ্বালানি সংকট, আবার দীর্ঘ ছুটি সংকট আরো বাড়িয়েছে। ডিজেলের সংকটে পণ্য লোডিং-আনলোডিংয়ে বিলম্বের কারণে মাদার ভেসেলের গড় অবস্থান নিশ্চিতভাবে আরো বেড়ে যাবে।’

 

লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য নিয়ে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য স্থানান্তর করে নদীপথে প্রতিদিন ৭০-৮০টা জাহাজ বরাদ্দ হচ্ছে। একটা ভয়েজে (প্রতি ট্রিপে) চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে নদীপথে পণ্য পরিবহনে গড়ে কমপক্ষে তিন হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হয়। এ হিসাবে ৮০টা লাইটার জাহাজের জন্য গড়ে প্রায় আড়াই লাখ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে এখন তেল পাওয়া যাচ্ছে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার লিটার করে।

 

চট্টগ্রামের অফডক বা কনটেইনার ডিপোগুলোতেও ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। এসব ডিপোর কার্যক্রম সচল রাখতে পরিবহনসহ পণ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ৬০-৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খলিলুর রহমান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। গত অর্থবছরে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৪ লাখ টন। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি হয়েছে, যার ৬৫ শতাংশ এসেছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে। 

এছাড়া ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে চাপের মধ্যেই ১০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। ইউনিপেক নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে এ জ্বালানি সরবরাহ করেছে।

 

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব সরাসরি বাজারদর, উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে।

সব খবর

আরও পড়ুন

১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

গণহত্যা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

২৩ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

আজ ঈদুল ফিতর আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

গ্যাস খাতে মার্কিন প্রভাব বাড়ছে এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি

১৮০ দিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি