ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম-কে অপসারণের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। একই সঙ্গে সংসদে গৃহীত শোক প্রস্তাব থেকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে সংসদীয় বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা শুধু সংসদের মর্যাদাহানি নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অবমাননার সামিল। তাই তাকে অবিলম্বে ওই প্যানেল থেকে অপসারণ করার দাবি জানায় জোটটি।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনীত করা হয়। সেখানে সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর চারজন সদস্যের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলামকে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করে তাকে খালাস দেয়।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তি এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। ওই শোক প্রস্তাবে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দেয়।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য হট্টগোল ও ওয়াকআউট করেন। ভাষণের শুরুতে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় জামায়াতের অনেক সংসদ সদস্যকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট অভিযোগ করে, সংসদের শোক প্রস্তাবে আলবদর-রাজাকার বাহিনীর সদস্য এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। একই সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে গড়িমসি করাকে তারা জাতীয় মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে; মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনর্বাসনের জন্য নয়। তাই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয় জোটটি।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।
এদিকে পৃথক বিবৃতিতে বাসদ এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগও জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।