সর্বশেষ

৩৭ বিশিষ্ট নাগরিকের যৌথ বিবৃতি

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশন-সরকার-দলগুলোর প্রতি আহ্বান

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশন-সরকার-দলগুলোর প্রতি আহ্বান

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা প্রতিরোধের দাবি জানান।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই সম্পন্ন হওয়া একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত ছিল। তবে নির্বাচনের পরদিন থেকেই বাগেরহাট, ফরিদপুর, রংপুর, কুমিল্লা, পিরোজপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নোয়াখালীর হাতিয়া ও ঝিনাইদহসহ কয়েকটি জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক ঘটনার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এসব ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একটি দলকে ভোট দেওয়ার ‘শাস্তি’ হিসেবে জরিমানা আদায়ের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।

 

নাগরিকরা বলেন, যেসব দল বা প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো নিজ নিজ অনুসারীদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—বিশেষ করে পুলিশ ও মাঠে দায়িত্বে থাকা বিজিবির সদস্যদের—দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। পক্ষপাতহীনভাবে আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলা হয় বিবৃতিতে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সেনাবাহিনী এখনো মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি যে নিষ্ঠা দেখিয়েছে, চলমান সহিংসতার ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্বাক্ষরকারীরা।

 

অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিচ্ছে—এমন প্রেক্ষাপটে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করা হয়। বড়-ছোট, বিজয়ী-বিজিত নির্বিশেষে সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সহিংসতা পরিহার ও ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

 

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, টিআই-বির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

বিবৃতিটি প্রেরণ করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। নাগরিকদের প্রত্যাশা, দায়িত্বশীল আচরণ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

সব খবর

আরও পড়ুন

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতারণার দলিল’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতারণার দলিল’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার

হত্যা মামলায় রিমান্ড আবেদন ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার

“শেখ মুজিব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্ভব”: মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল

রক্তরেখায় বাংলাদেশ এর তৃতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন “শেখ মুজিব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্ভব”: মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল

তিন সন্তানসহ এক নারী ডিবি হেফাজতে

স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তিন সন্তানসহ এক নারী ডিবি হেফাজতে

এবার ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন গ্রেপ্তার

পরপর দুই সাবেক তিন তারকা জেনারেল আটক এবার ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন গ্রেপ্তার

আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ

নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই বিএনপি নেতা আরও পাঁচ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ

‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন না ডাকলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত চায় জামায়াত জোট ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন না ডাকলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে এটিএম আজহারের অপসারণ দাবি

গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিবৃতি সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে এটিএম আজহারের অপসারণ দাবি