ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল বাতিল করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জাল ভোট, ভোটার উপস্থিতি কম থাকা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম এবং ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের বিষয়গুলো উল্লেখ করে তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিদাতারা দাবি করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের জোটভুক্ত শক্তিগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি বলে তারা মত দেন। ভোটার উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়; তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
গণভোটের ফলাফল সম্পর্কেও বিবৃতিতে অসংগতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কিছু আসনে অস্বাভাবিক হারে ভোট প্রদর্শনের বিষয়টি উল্লেখ করে তারা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়, কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান। তাদের মতে, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা সম্ভব নয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিবৃতিটি প্রদান করেন স্বাচিপের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।