বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আজ বন্দী। না, তাহারা জেলখানায় নন, তাহারা বন্দী জামায়াতে ইসলামের লেবাসে মোড়ানো একখানা পশ্চিমা দালাল চক্রের হাতে। এই চক্রটি ইসলামের নাম লইয়া ইসলামকেই ধ্বংস করিবার মিশনে নামিয়াছে। বাহিরে দাড়ি, ভিতরে দালালি।
এই দলটির শরীরে ইসলামের পোশাক, মুখে ইসলামের বুলি কিন্তু অন্তরে পশ্চিমা চুক্তি। জামায়াতের মতোই অন্যান্য মুসলিম দেশে পশ্চিমাদের গুপ্তচরগণ ছদ্মবেশে ধর্মের ক্ষতি করিতেছে। তাহারা ইসলামকে অপবিত্র করিতেছে, মুসলিমদের ইমান ও আমল নষ্ট করিতেছে। তাহাদের কাজ ইসলামের ব্যাখ্যা পাল্টানো, মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা আর ফতোয়ার খোলস বদলানো।
এই দলটি শরীয়াভিত্তিক নেতৃত্বে চলে না। তাহাদের নেতা হইতে হইলে চাই পশ্চিমা প্রশংসাপত্র, দাড়ি ছোট আর ফটোশপে বানানো জান্নাতি হাসি। তাহারা সময়ের সাথে সাথে ইসলামের ব্যাখ্যা পাল্টায়, যেন ইসলাম হইল একখানা মৌসুমী ফল যাহা গ্রীষ্মে মিষ্টি, শীতে টক।
বিগত সময়ে ছবির ব্যবহার হারাম বলিয়া পোস্টারে প্রার্থীর চেহারা ছিল লুপ্ত। এখন ছবির ব্যবহার হালাল ব্যাখ্যা দিয়া পোস্টারে দেদারসে জান্নাতি হাসি ছড়ায়। পূর্বে গান বাজনা হারাম বলিয়া মঞ্চে চুপ থাকিত, এখন জিঙ্গেল বানাইয়া দাড়িপাল্লায় ভোট চায়। হারামের গন্ধ নাই, কারণ গন্ধদাতা এখন মার্কিন সুগন্ধি বিক্রেতা।
ফিলিস্তিনে মুসলিম হত্যাকাণ্ডের মদদদাতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাহাদের নিবিড় বন্ধুত্ব। তাহারা বলেন, “আমরা আমেরিকার বন্ধু, কিন্তু মুসলমানদের নেতা।” দেশের বাদবাকি মুসলিম দলকে তাহারা জাহেল মনে করে, ইসলামী স্কলারদের ফতোয়া মানে না। তাহারা বলেন, “আমরা নিজেই শরীয়া, আমাদের ফতোয়াই ফাইনাল।”
বিধর্মীদের ধর্মকর্ম আগে তাহারা বলিত, “শিরক, বেদাত, হারাম।” এখন তাহারা নির্বাচনের স্বার্থে পূজামণ্ডপে যায়, প্রসাদ খায় আর বলে “রোজা-পূজা এক পথের দুই ধ্বনি।” তাহারা বলে “ভগবান ও আল্লাহ এক” এই কথা শুনিয়া সম্রাট আকবরও কবর হইতে উঠিয়া বলেন, “ইউরেকা! এই তো আমার দীন-ই-ইলাহি!”
এই দলটি ফতোয়া পাল্টায়, সঙ্গী পাল্টায়, বক্তব্য পাল্টায়, পরিকল্পনা পাল্টায়। তাহারা বলে “ইসলাম পরিবর্তনশীল, আমরা সেই পরিবর্তনের পথিক।” কিন্তু প্রশ্ন হইল ইসলাম কি তাহাদের নির্বাচনী ইশতেহার?
তাহারা ইসলামের লেবাস ধরিয়া ইসলামকেই ধ্বংস করিতেছে। তাহারা বলে “আমরা ইসলামের রক্ষক।” কিন্তু তাহাদের রক্ষা মানে ইসলামকে মার্কিন মডেলে সাজানো, ভোটে জান্নাত বিক্রি করা আর শরীয়াকে জিঙ্গেলে গলানো।
তাহারা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করিতেছে। তাহারা বলিতেছে “ইমান রাখো, কিন্তু ভোট দাও।” তাহারা বলে “আমল করো, কিন্তু পোস্টার দেখো।” তাহারা বলে “তসবিহ গোনো, কিন্তু জিঙ্গেল শুনো।” এইভাবে তাহারা ইমান ও আমলকে একখানা নির্বাচনী প্যাকেজে রূপান্তর করিয়াছে।
তাহারা ইসলামের সৌন্দর্যকে লেবুর শরবতে গলাইতেছে। বাহিরে দাড়ি, ভিতরে দালালি। বাহিরে তসবিহ, ভিতরে ট্রান্স-আটলান্টিক চুক্তি। বাহিরে জান্নাতি হাসি, ভিতরে ভোটের হিসাব।
তাই আসুন, আমরা এই লেবাসধারী লেবুর শরবত চক্রকে চিনিয়া রাখি। তাহারা ইসলাম ধ্বংসের কারিগর। তাহারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বন্দী করিয়াছে। তাহারা ইসলামের নাম লইয়া ইসলামকেই অপবিত্র করিতেছে।
এই চক্রের বিরুদ্ধে চাই ব্যঙ্গ, চাই বুদ্ধি, চাই ব্যাখ্যা। তাহারা যাহা লুকায়, আমরা তাহা প্রকাশ করিব। তাহারা যাহা পাল্টায়, আমরা তাহা ধরিয়া ফেলিব। তাহারা যাহা বিক্রি করে, আমরা তাহা ফিরাইয়া দিব।
কারণ, ইসলাম কোন নির্বাচনী পোস্টার নয়। ইসলাম কোন জিঙ্গেল নয়। ইসলাম কোন মার্কিন চুক্তি নয়। ইসলাম হইল আল্লাহর পথ, তাহা লেবাসে নয়, ললাটে লেখা।
লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল; যে ইতিহাসের পাতায় পাতায় দাগ রেখে যায়