সর্বশেষ

রাজনৈতিক রম্য

রুহানী রিমান্ড এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিজনেস

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০
রুহানী রিমান্ড এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি বিজনেস

বাংলাদেশে নির্বাচন শেষ হইয়াছে। ফলাফল প্রকাশিত হইয়াছে। কিন্তু যাহারা বলিয়াছিল, “আমাদের জয়ে স্বয়ং আল্লাহতাআলা কাজ করিতেছেন, ফেরেশতারা মাঠে নামিয়াছেন, গায়েবী শক্তি সক্রিয়” তাহাদের মুখে এখন তালা। ইহা কি ইমানের পরীক্ষা, না কি ইহকালের ফাঁকি?

 

তাহারা বলিয়াছিল, “আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করিব। ভোট মানেই জান্নাতের টিকিট।” বিশেষ ভিসা ব্যবস্থাও চালু হইয়াছিল, “আমাদের ভোট দিলে জান্নাত নিশ্চিত।” জনগণ ভাবিয়াছিল, “ব্যালট বাক্সেই বেহেশতের দরজা।” কিন্তু ফলাফল প্রকাশ পাইতেই দেখা গেল সবই কথার ফানুশ। এখন প্রশ্ন, খোদাতাআলা তাহাদের কি রিমান্ডে নিবেন?

 

তাহাদের উল্টা করিয়া ঝুলাইয়া বাইড়াইতে বাইড়াইতে বলিবেন, “কেন আমাদের এরূপ হেনস্তা করিয়াছোস? আমার ফেরেশতাকূলকে জমিনে নামাইয়াছোস? কেন কেন কেন?” ফেরেশতারা বলিবেন, “আমরা তো নামি নাই, নামাইয়াছো বলিয়াছো কেন, কেন কেন?”

 

ইসলাম এখন কোণায় বসিয়া ভাবিতেছে, “আমাকে ভোটের নামে বেচিয়া দিয়া ইহকালের সওদা করিয়াছো? আজ যখন তোরা হারিয়াছিস, তাহা হইলে আমার কী নাম নিশানা মুছিয়া যাইবে?” ইমান কি ব্যালটের মত পরাজয়ের কালিমায় লিপ্ত হইবে?

 

ধর্মপ্রাণ মুসলিমমহল আসিয়া বান্ধিয়া বলিতেছে, “আমাদের কেন ভিনধর্মের অনুসারিদের কাছে অপদস্ত করিলি? কেন আমাদের জঙ্গী বানাইলি? কেন আমাদের নিয়া ছলচাতুরি করিয়া, মিথ্যা প্রলোভন দিয়া ইমান নষ্ট করিলি?” এক বৃদ্ধ বলিলেন, “আমার নাতি ভোট দিতে গিয়া বলিল, ‘দাদা, জান্নাতের টিকিট নিতে গেলাম।’ এখন সে বলিতেছে, ‘দাদা, টিকিট ভুয়া ছিল।”

 

অন্যদিকে দুনিয়াবি পরাশক্তি, যাহারা দলটির কথায় ভরসা করিয়া বিলিয়ন ডলার পাঠাইয়া গোঁফে তেল মাখিতেছিল, তাহারা বলিতেছে, “আমরা দেশের তলদেশের তেল, গ্যাসের ভাগ নিব বলিয়া বিনিয়োগ করিয়াছিলাম। এখন আমাদের ডলার ফেরত দে হারামজাদারা!”

 

তাহারা গলায় পাড়া দিয়া বলিতেছে, “তোমরা বলিয়াছিলে, ‘আমরা জিতিব, ইসলাম প্রতিষ্ঠা করিব, তোমাদের বিনিয়োগ নিরাপদ।’ এখন তোমরা হারিয়াছো, ইসলামও কোণায় বসিয়া কাঁদিতেছে, জনগণও বলিতেছে, ‘আমরা প্রতারিত।”


নির্বাচনে হারিয়া একূল ওকূল সব হারাইয়া দলটি এখন কী করিবে? তাহারা ইহকাল, পরকালের ডিলারশীপ হারাইয়া নতুন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলিবে? “জান্নাত এক্সপ্রেস” বন্ধ হইয়াছে, এখন কি “রুহানি রিকশা” চালু হইবে?

 

এক নেতা বলিতেছেন, “আমরা নতুন ব্র্যান্ড আনিব ‘ইমান প্লাস’। ইহা হইবে উন্নয়ন ও আখেরাতের যৌথ প্যাকেজ।” অন্য নেতা বলিতেছেন, “আমরা ওয়াজে বলিব ‘হার মানেই পরীক্ষা, পরীক্ষা মানেই পুরস্কার।” জনগণ বলিতেছে, “তাহা হইলে ভোট মানেই ওয়াজ?”

 

এইরূপে চলিতেছে পরাজয়ের পরবর্তী ব্যাখ্যা। কেউ বলিতেছে, “আমরা হারি নাই, আমরা হারাইয়াছি।” কেউ বলিতেছে, “আমরা জিতি নাই, আমরা জাগিয়াছি।” কেউ বলিতেছে, “আমরা জান্নাত পাই নাই, আমরা জান্নাতের পথে আছি।”


তাই এখন প্রয়োজন একখানা “রুহানি রিমান্ড কমিশন”। এই কমিশন ঠিক করিবে কে কাকে ফেরেশতা বানাইয়াছিল, কে কাকে জান্নাতের টিকিট বিক্রয় করিয়াছিল, কে কাকে গায়েবী শক্তির নামে ভোট চাইল, আর কে কাকে হারাইয়া এখন গামছা বাঁধিয়া গাছ খুঁজিতেছে।

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল- ইহকাল পরকাল হারাইয়া পলায়নের রাস্তা খুঁজিতে তৎপর

সব খবর