সর্বশেষ

ব্যঙ্গ কলাম

ট্রাম্প মহাশয়ের তেলতত্ত্ব ও গ্যাসগাথা

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৫২
ট্রাম্প মহাশয়ের তেলতত্ত্ব ও গ্যাসগাথা

রাষ্ট্রনায়ক শব্দটি শুনিলেই আমাদের মনে ভাসিয়া উঠে এক মহাপুরুষের প্রতিচ্ছবি—যিনি জাতিকে পথ দেখান, বিশ্বকে আলোকিত করেন। আর সেই মহাপুরুষ যদি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে তো কথাই নাই। তিনি কেবল রাজনীতির মেধাবী নন, অর্থনীতিরও মহাজ্ঞানী। তাঁহার রাজনৈতিক দর্শন সমাজতন্ত্রের মহিমায় দীপ্ত। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন—কোনো সম্পদ কেবল কাহারো একার কুক্ষিগত হইবে না বরং সকলের মধ্যে সমানভাবে বিলিবণ্টন হইবে।

 

তাঁহার এই মহান দর্শনের বাস্তব প্রয়োগ আমরা দেখিতেছি বিশ্বজুড়ে। যেখানেই ভূমির নিচে তেল আছে, সেখানেই তিনি রাষ্ট্রনায়কোচিত ভঙ্গিতে প্রবেশ করেন। ভেনেজুয়েলা হোক, কলাম্বিয়া হোক, কিংবা লিবিয়া, ইরান, ইরাক—সবখানেই তিনি তেল সংগ্রহে ব্যস্ত। তাঁহার উদ্দেশ্য মহৎ—বিশ্বের সকল ভোক্তাদের মাঝে নিজের নির্ধারিত দামে সেই তেল বিলাইয়া দেওয়া। এ যেন আধুনিক যুগের রবিনহুড, তবে তিনি ধন নয়, তেল বিলান।

 

তেলপ্রেমের এই মহিমা তাঁহার দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত। তিনি তেলাপিয়া মাছ খেতে ভালোবাসেন, কারণ নামের মধ্যেই ‘তেল’ আছে। তিনি বেড়ান তেল আবিবে, ঘটান তেলেসমাতি কান্ড আর আঁতেলদের স্থান দেন তাঁহার মন্ত্রীসভায়। এ যেন তেলের প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ, যাহা তাঁহার রাষ্ট্রনায়কোচিত দর্শনকে আরও উজ্জ্বল করিয়া তোলে।

 

বাংলাদেশে যদিও তেল পাওয়া যায় নাই, তথাপি গ্যাসের ভাণ্ডার আছে। ট্রাম্প মহাশয় তাই আমাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতেছেন। তেল সংগ্রহ অভিযান শেষ হইলেই তিনি গ্যাস সংগ্রহে নামিবেন। তখন বাংলাদেশ হইবে তাঁর অন্যতম বন্ধু। আমরা সেই বন্ধু হইতে আগ্রহী। আমরা চাই বিশ্বের সকল তেল নিঃশেষ হইয়া যাক, গ্যাসের চাহিদা বাড়ুক। তখন ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড হইতে আমাদের বেগ পাইতে হইবেনা।

 

তাঁহার এই মহৎ উদ্যোগে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন রূপ পাইতেছে। তেল দখল করিয়া তিনি বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা আনিতেছেন। একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল, অন্যদিকে সৌদি আরবের ভাণ্ডার—সবই তিনি সার্বজনীন করিবার প্রয়াসে নিয়োজিত। অর্থনীতির পাঠ্যপুস্তকে তাঁহার নাম লেখা থাকিবে ‘তেলতন্ত্রের জনক’ হিসেবে।

 

তবে এই সমাজতন্ত্রের রূপ কিছুটা ব্যতিক্রমী। এখানে রাষ্ট্র নয় বরং ট্রাম্প মহাশয় নিজেই সমাজতন্ত্রের রক্ষাকর্তা। তিনি নির্ধারণ করেন কোন দামে তেল বিক্রি হইবে, কোন দেশে কতটা তেল পৌঁছাইবে। এ যেন এককেন্দ্রিক সমাজতন্ত্র, যেখানে জনগণ নয় বরং রাষ্ট্রনায়কই সর্বময় কর্তা।

 

বিশ্বরাজনীতির গবেষকরা বলিতেছেন, ট্রাম্প মহাশয়ের এই তেলতত্ত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতেছে। ভেনেজুয়েলা, কলাম্বিয়া, লিবিয়া, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান, কাতার, সৌদি আরব—সব দেশই এখন তাঁহার তেলতন্ত্রের পরীক্ষাগার। তিনি তেলকে সার্বজনীন করিবার জন্য মেহনত করিতেছেন।

 

বাংলাদেশের জন্যও তিনি বিশেষ পরিকল্পনা করিয়াছেন। গ্যাসের ভাণ্ডারকে তিনি বিশ্বজনীন করিবেন। তখন আমাদের গ্যাস হইবে বিশ্ববাসীর সম্পদ। আমরা সেই মহৎ উদ্যোগে অংশীদার হইতে চাই। আমাদের আশা, ট্রাম্প মহাশয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হইবে গ্যাসতন্ত্রের অন্যতম কেন্দ্র।

 

অতএব বলা যায়, ট্রাম্প মহাশয় কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি এক মহাজাগতিক অর্থনীতিবিদ। তাঁর তেলতত্ত্ব ও গ্যাসগাথা বিশ্বকে নতুন সমাজতন্ত্রের পথে পরিচালিত করিতেছে। আমরা সেই সমাজতন্ত্রে অংশীদার হইতে চাই। আমরা চাই, বিশ্বের সকল তেল শেষ হইয়া যাক, গ্যাসের চাহিদা বাড়ুক। তখন ট্রাম্পের ট্রাম্প কার্ড হইতে আমাদের তর সইবে না।

 

লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল; তৈলাক্ত বাঁশের অঙ্ক করিতে করিতে নাজেহাল

সব খবর