আমাদের সমাজে কিছু মুখোশধারী ঘুরিয়া বেড়ায়। তাহারা সুশীল, তাহারা নিরপেক্ষ, তাহারা গণতন্ত্রের গীত গায়। কিন্তু তাহাদের অন্তরে লুকায় জামাতের জিন, ছদ্মবেশের চাতুর্য, ষড়যন্ত্রের সূক্ষ্মতা। তাহাদের একখানি প্রতীকি নাম দেওয়া যাক, ধরিয়া নিলাম আমার বন্ধু মাসুদ।
নিরপেক্ষরা বলিতেছে—“আমরা আরো ৫ বছর ইউনূস সরকার চাই।”
জামাতও বলিয়াছিল—“আমরা ইউনূস সরকার চাই।”
আমার বন্ধু মাসুদও বলিয়াছিল—“ইউনূসই অন্ধের দেশে আলো।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“আগে স্থানীয় নির্বাচন হউক।”
জামাতও বলিয়াছিল—“মেয়র নির্বাচন আগে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“লোকাল ভোট আগে।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“পিআর পদ্ধতিতে সরকার চাই।”
জামাতও বলিয়াছিল—“পিআর চাই।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“পিআরই গণতন্ত্র।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“আগে গণভোট, পরে জাতীয় নির্বাচন।”
জামাতও বলিয়াছিল—“গণভোট আগে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“গণভোটই পথ।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট হইবে।”
জামাতও বলিয়াছিল—“ডিসেন্ট বাদ।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“ডিসেন্ট মানেই বিভ্রান্তি।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“সনদে স্বাক্ষর করিব না।”
জামাতও বলিয়াছিল—“স্বাক্ষর মানেই আত্মঘাত।”
মাসুদও কলাম শেয়ার করিয়াছিল—“স্বাক্ষর মানেই আত্মবিক্রয়।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“ইলেকশনে সূক্ষ্ম কারচুপি হইয়াছে।”
জামাতও বলিয়াছিল—“কারচুপি হইয়াছে।”
মাসুদও বলিয়াছিল—“কারচুপি সূক্ষ্ম, কিন্তু গভীর।”
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“হাদির খুনে মীর্জা আব্বাস জড়িত।”
জামাতও বলিয়াছিল—“আব্বাস দায়ী।”
মাসুদও সেই পোস্ট সবার আগে শেয়ার করিয়াছিল।
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
তাহারা বলিতেছে—“এই বিএনপি শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়।”
জামাতও বলিয়াছিল—“বিএনপি বদলাইয়াছে।”
মাসুদও সেই পোস্টে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়াছিল।
তাহা হইলে মাসুদ কি জামাতী? না, তিনি নিরপেক্ষ জামাতী।
এইরূপে মাসুদ তাহার নিরপেক্ষতা রক্ষা করিয়াছেন।
তিনি জামাতের মতামতকে নিজের মতামত বানাইয়াছেন,
জামাতের পোস্টকে নিজের দেয়াল বানাইয়াছেন,
জামাতের ভাষাকে নিজের কলম বানাইয়াছেন।
তবুও তিনি নিরপেক্ষ।
তাঁহার নিরপেক্ষতা হইল সেই ছায়া,
যাহা জামাতের রোদে জন্মে,
বিএনপির বাতাসে দুলে,
গণতন্ত্রের গলিত মূর্তিকে ঢাকিয়া রাখে।
তাঁহার মতামত হইল সেই আয়না,
যাহা জামাতের মুখ দেখায়,
কিন্তু নিচে লেখা থাকে—“আমি সুশীল, আমি নিরপেক্ষ।”
তাঁহার শেয়ার হইল সেই তলোয়ার,
যাহা বিএনপির বুকে গিয়া বসে,
কিন্তু হ্যান্ডেলে লেখা থাকে—“গণতন্ত্রের রক্ষা।”
তাঁহার কলাম হইল সেই কবরফলক,
যাহাতে লেখা থাকে—“স্বাধীন মতামত”,
কিন্তু নিচে চাপা থাকে—“জামাতের ইশতেহার।”
তাই বলি—
যদি কাহারো মতামত জামাতের মত হয়,
যদি কাহারো শেয়ার জামাতের পোস্ট হয়,
যদি কাহারো নিরপেক্ষতা জামাতের ছায়া হয়,
তাহা হইলে তাহাকে ডাকিবেন—“নিরপেক্ষ জামাতী।”
তবে আশেপাশে মাসুদের মতো কোন জামাতী নিরপেক্ষ হোগার পোলাদের সাথে মিলে গেলে,
তাহাদেরকে নিরপেক্ষ জামাতী ডাকিতে দ্বিধা করিবেন না।
লেখকঃ এক ক্লান্ত পেনসিল - নিরপেক্ষতার চাদরে ঢাকা ঘাতকের লক্ষ্য