রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম সাধারণ মানুষের নাগালে থাকলেও মাংস, চাল, ডিম, গুঁড়ো দুধ ও মশলার বাজারে অস্বস্তি বাড়ছে। আসন্ন শবে বরাত ও রমজানকে কেন্দ্র করে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সিন্ডিকেট ও সরবরাহকারীদের কারসাজিতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজি ৬০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০–৪০ টাকা, শিম ৩০–৫০ টাকা, কুমড়া, মুলা, পেঁপে ও ব্রকলির দামও সহনীয়। সবচেয়ে বেশি স্বস্তি মিলেছে আলুতে—কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে ৫–১০ টাকা কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ ভালো থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে শসা ও কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে।
সবজির দাম কমলেও মাংস ও ডিমের বাজারে চাপ বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি জানুয়ারির শুরুতে ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১৮০–১৮৫ টাকায় উঠেছে। গরুর মাংসের দাম এলাকাভেদে কেজি প্রতি ৮০০ টাকার ওপরে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে সামনে রেখে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে।
প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়ে ১৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শিশুদের গুঁড়ো দুধের দামেও বড় প্রভাব পড়েছে। নেসলের ল্যাকটোজেন ও ন্যান দুধের দাম প্যাকেটপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। আড়াই কেজির নিডো দুধের দাম ২৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০০ টাকা। চা পাতার দামও কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মশলার বাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩২০০ টাকার এলাচ এখন ৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু বোখারা ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকা, কিশমিশ ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০০ টাকা হয়েছে। কাঠবাদামসহ অন্যান্য শুকনো ফলের দামও বেড়েছে। আদা ও রসুন মানভেদে ১৪০–২২০ টাকা, চিনি ৯৮–১০৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০–৭০ টাকা, ছোলা ৮০–১০০ টাকা এবং মশুর ডাল ৮০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও চাল, ডাল, তেল ও মশলার অস্বাভাবিক দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। ক্রেতারা বলছেন, শবে বরাত ও রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। সরবরাহকারীরা বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও মাংস, চাল, ডিম, দুধ ও মশলার দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। আসন্ন শবে বরাত ও রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।