কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি, অবৈধ অস্ত্র মজুতের তথ্য এবং রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা নির্বাচনকালীন সময়ে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনকালীন ঝুঁকি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। চিঠিতে বলা হয়, ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র দল সক্রিয় রয়েছে এবং সেখানে অবৈধ অস্ত্র মজুত থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব গোষ্ঠীকে স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের সময় নাশকতায় ব্যবহার করতে পারে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী অনেক ব্যক্তি অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল, সভা ও গণসংযোগে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে রোহিঙ্গাদের কোনো নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত না করার নির্দেশনা দেওয়া, এ ধরনের সম্পৃক্ততাকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা, নির্বাচনের আগে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকে ক্যাম্পসংলগ্ন ভোটকেন্দ্রের পথে চেকপোস্ট বসিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটদানে বাধা দেওয়া ও কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে আটক করা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা সিআইসিদের নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকেই সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে। এপিবিএনের ৮, ১৪ ও ১৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও ক্যাম্পের বাইরে দায়িত্ব না দিয়ে নিরাপত্তা, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর ও সিসি ক্যামেরা মেরামত ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।