সর্বশেষ

ঢাকায় গ্যাস সংকট

পাইপলাইনের লিকেজ, অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০
পাইপলাইনের লিকেজ, অব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি

ঢাকায় গ্যাস সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রান্নার চুলা জ্বলছে না, শিল্পকারখানা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গণভবনের সামনেও পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছে, যা সমস্যার গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইনের পুরনো অবস্থা, অব্যবস্থাপনা এবং গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের কারণে সংকট দিন দিন বাড়ছে।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তিতাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সম্মুখে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভাল্ভ ফেটে সৃষ্ট লিকেজ মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভাল্ভ বন্ধ করে চাপ সীমিত করায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলিসহ সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাল্ভটি পরিবর্তনের কাজ শুরু করা হয়েছে। 

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুরনো পাইপলাইন, অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবৈধ সংযোগের কারণে লিকেজ বেড়েই চলেছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে এবং অনেক এলাকায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

 

দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনছেন। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গৃহিণীরা বলছেন, প্রতিদিন রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অনেক কারখানা বাধ্য হয়ে ডিজেল ব্যবহার করছে, যা খরচ বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণও বাড়াচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

দৈনিক খবরের কাগজ জানিয়েছে, সরকার গ্যাস সংকট সমাধানে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। পাইপলাইন সংস্কার, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ চলছে। তবে বাস্তবে সংকট কমছে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও বৈশ্বিক বাজারে দাম ওঠানামার কারণে সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।

 

ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি—তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস। অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই। আমদানি কম হওয়ায় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে এলপিজির সরবরাহ কমে গেছে। মানুষ দোকানে দোকানে ঘুরে গ্যাস পাচ্ছে না। পেলেও ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

 

তিতাসের হিসাবে, ঢাকায় বাসাবাড়িতে দিনে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস দরকার। চাহিদার সমান গ্যাস সাধারণত সরবরাহ করা হয়। তবে অবৈধ সংযোগে গ্যাসের একটি বড় অংশ চলে যায়। এ কারণে কিছু এলাকায় চাপ কম থাকে। উল্লেখ্য, গ্যাস-সংকটের কারণে ২০০৯ সালের ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে নতুন আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকায় নতুন যত ভবন হয়েছে, সেখানে এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তবে অবৈধভাবে ঢাকা ও আশপাশে অনেক সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

সব খবর