এলপিজি সিলিন্ডারের দাম পুনর্নির্ধারণ এবং প্রশাসনের হয়রানি বন্ধের দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ঢাকাসহ দেশের সব এলাকায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় হঠাৎ করেই সংকটে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ব্যবসায়ী সমিতির নির্দেশনায় বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত থেকেই পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলন বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরকার জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আরও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ১৪ দশমিক ৬৫ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমদানিতে ঘাটতি না থাকলেও বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বিতরণ পর্যায়ে।
ডিলারদের অভিযোগ, এলপিজি কোম্পানিগুলো নিজেরাই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। সদরঘাট এলাকার ডিলার সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ কোম্পানিগুলোই বাড়তি দামে সিলিন্ডার দিচ্ছে।
কর চালান বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ৪ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে একটি শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৩০২ থেকে এক হাজার ৩২৯ টাকায় বিক্রি করেছে, যা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।
এদিকে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি দেশব্যাপী বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রমে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান বলেন, বিইআরসির নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার কেনাই সম্ভব হচ্ছে না, তার ওপর প্রশাসনের অভিযান ব্যবসায়ীদের চাপে ফেলছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব) বাজারের অস্থিরতার পেছনে শীতকালীন চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা বলেছে। সংগঠনটি এলপিজির ওপর ভ্যাট কাঠামো পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও দিয়েছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে দিনগুলোতে এলপিজি সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।