সর্বশেষ

‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ: আসিফ সালেহ

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫০
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর ও অসৎ: আসিফ সালেহ

আসন্ন গণভোটে এক প্রশ্নে ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অনুমোদন নেওয়ার উদ্যোগকে “বিভ্রান্তিকর ও অসৎ” বলে আখ্যা দিয়েছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তাঁর মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেই দেশে পরিবর্তন আসবে—এমন দাবি জনগণকে ভুল বোঝানোর শামিল।

 

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে গণভোটের প্রক্রিয়া ও সরকারি প্রচারণা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন তিনি। লিখেছেন, “বলা হচ্ছে দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনি কি আসলেই জানেন আপনি কোন তালা কোন চাবি দিয়ে খুলতে যাচ্ছেন?”

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই অনুষ্ঠিত হবে এই গণভোট। আলাদা ব্যালটে ভোটারদের একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বলা হবে—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তারা সম্মত কি না। অথচ এই সনদের মধ্যে রয়েছে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক এবং বাকি ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

 

এই প্রক্রিয়াকে ‘চালাকি’ আখ্যা দিয়ে আসিফ সালেহ বলেন, “একটি প্রশ্নে এতগুলো গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সাংবিধানিক পরিবর্তন জুড়ে দেওয়া মানে ভোটারদের প্রকৃত পছন্দের সুযোগ কেড়ে নেওয়া।” তাঁর যুক্তি, কেউ হয়তো নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষে, কিন্তু নতুন উচ্চকক্ষ গঠনের বিপক্ষে—কিন্তু এই গণভোটে সেই ভিন্নমত জানানোর কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের অনেকেই জানেন না যে এই গণভোটের মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার মতো বিষয়েও তারা পরোক্ষভাবে ভোট দিচ্ছেন। “বাড়ির বুয়া থেকে ব্যারিস্টার বন্ধু পর্যন্ত সবাই কনফিউসড,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 

সরকারের প্রচারণায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি মিলবে—এমন বক্তব্যকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেন আসিফ সালেহ। বলেন, “কোনো একটি গণভোট নিজে থেকেই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে না। পরিবর্তন আসে রাজনৈতিক আচরণ, দলীয় সংস্কার, জবাবদিহি ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের বলা হচ্ছে কী কী সংবিধানে যুক্ত হবে, কিন্তু বলা হচ্ছে না—এর খরচ কত হবে, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং আদৌ সমস্যার সমাধান হবে কি না।

 

গণতন্ত্রে সম্মতির বৈধতা বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যদি ভোটাররা না বোঝে, অথচ তাদের সম্মতি আদায় করা হয়—তাহলে তা সম্মতি নয়, তা কেবল প্রক্রিয়াগত অনুমোদন।”

 

সবশেষে তিনি বলেন, “এই গণভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলা পরিবর্তন বিরোধিতা নয়। এটি বিভ্রান্তির ওপর দাঁড়ানো একটি প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করা।”

সব খবর