সরকার নির্ধারিত নতুন দরে এলপিজি বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত ১,৭২৮ টাকার পরিবর্তে ২,১০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন বাড়তি খরচের চাপে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম বাড়ানোর পরও সেই দামে গ্যাস পাচ্ছি না। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০ টাকার নিচে কোথাও নাই।” তার মতো অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দোকানদাররা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন—কখনও ‘গ্যাস নেই’, কখনও ‘যুদ্ধের কারণে সংকট’।
সরকার গত সপ্তাহে এক লাফে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু বাজারে সেই দরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, তারা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তাই খুচরা পর্যায়ে দামও বেড়েছে।
ডিলার ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলছে দোষারোপের পালা। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, কোনো কোম্পানি নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি করছে না; বরং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতেই বাজার অস্থির। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, পরিবহন খরচ ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম কিছুটা বাড়ছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্বীকার করেছেন, “বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোই সামলানো যাচ্ছে না, এলপিজির বাজার মনিটরিং করাটা চ্যালেঞ্জিং।” তিনি জানিয়েছেন, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, বিইআরসি গণশুনানি ছাড়া নিয়মিত দাম নির্ধারণ করে আইন লঙ্ঘন করছে। তার মতে, “যে আইনে বিইআরসির জন্ম, সেই আইনই তারা মানছে না। ফলে দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া বেআইনি ও অযৌক্তিক।”
তিনি আরও বলেন, বিইআরসি যদি আইন অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল ও শাস্তি দিত, তাহলে বাজারে এমন বিশৃঙ্খলা থাকত না। বরং তাদের নিষ্ক্রিয়তা ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিচ্ছে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায়ের।