নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক শিক্ষককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর ‘বিক্ষুব্ধদের’ অগ্নিসংযোগে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। একই রাতে সংঘটিত এই দুটি ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিলহালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে তার নিজ বাড়ির সামনে গলা কেটে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন-চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে বাইরে ডেকে এনে প্রকাশ্য স্থানে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমারপাড়া এলাকায় হাশেম আলীর ছেলে ওহাবের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। আগুন লাগার সময় বাড়ির অন্য সদস্যরা পালাতে পারলেও ওহাবের বৃদ্ধা মা বের হতে না পেরে আগুনে পুড়ে মারা যান। নিহত নারীর নাম ও বিস্তারিত পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুটি সহিংস ঘটনার কোনোটিই ঠেকানো যায়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—খুনের পর এত দ্রুত কীভাবে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো?
এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় আরেকটি নিরপরাধ প্রাণ হারিয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই এমন প্রতিশোধমূলক সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। একজন শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত যেমন জরুরি, তেমনি অগ্নিসংযোগে নিহত বৃদ্ধার মৃত্যুর দায়ও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
নাটোরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্র এখনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ।