বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট দুই সপ্তাহ ধরে চলমান। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০–৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবুও অনেক দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজধানীর কাজীপাড়ার বাসিন্দা মো. সিরাজ জানান, হঠাৎ রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সকাল থেকে একাধিক দোকানে খোঁজ নিয়েও সিলিন্ডার পাননি। পরে একটি দোকানে পেলেও দাম দিতে হয়েছে ২,১৫০ টাকা। মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের বাসিন্দা আব্দুর রাকিব বলেন, কয়েকদিন ধরে এলপিজির দাম চড়া। কয়েক দোকান ঘুরে অবশেষে একটি সিলিন্ডার পেয়েছেন, তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে।
এলপিজি অপারেটরদের একটি অংশ দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কয়েকটি বিদেশি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও এলপিজিবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আরেকটি অংশ বলছে, কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান হঠাৎ আমদানি বন্ধ করে দেয়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, আমদানি বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন করলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি।
ভাটারা নতুন বাজারের এস আলম ট্রেডার্সের মালিক জানান, তাঁর দোকানে ডেল্টা ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার নেই। প্রতিদিন ৫০ সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও তিনি মাত্র ১০টি পেয়েছেন। ফলে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শাহজাদপুরের এক দোকানি বলেন, তাঁর দোকানে মাত্র একটি সিলিন্ডার আছে, সেটি তিনি নিজের প্রয়োজনে রেখে দিয়েছেন।
এলপিজি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবারকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, সৌদি আরামকো ঘোষিত জানুয়ারির সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে। আজ রোববার বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। এর আগে ডিসেম্বরে গ্রাহক পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১,২৫৩ টাকা।