সর্বশেষ

শোকের ছায়া পুরো এলাকায়

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৮
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৭ জন পুরুষ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল।

 

বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকাগামী পথে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বাসটি সামনে এগিয়ে যায়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি পন্টুন অতিক্রম করে সরাসরি পদ্মা নদী-তে পড়ে উল্টে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তলিয়ে যায়।

 

বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডুবন্ত বাস থেকে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।

 

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বাসটি নদীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসটির সামনের অংশ পানির ওপরে তোলা সম্ভব হয়। এরপর গভীর থেকে বাসটি টেনে তুলতে শুরু করলে একে একে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

বুধবার রাতেই ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬-এ পৌঁছায়।

 

দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থল। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এদিকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। তাদের স্বজনরা হাসপাতাল ও ঘাট এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালাচ্ছেন।

 

প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সব খবর