দেশে গ্যাস ও তরল জ্বালানির সংকটের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বেসরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সরকারের জ্বালানি বিভাগ। চট্টগ্রামভিত্তিক সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল), বর্তমানে এসপি পিএলসি, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসপিএল আবেদন জমা দেয়। এতে বার্ষিক প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্য উল্লেখ থাকলেও বিনিয়োগের আর্থিক তথ্য দেওয়া হয়নি। বিপিসি এ বিষয়ে কমিটি গঠন করে এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে গত বছরের এপ্রিলে বিপিসির চেয়ারম্যান জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়ে এসপিএলকে অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্ষিক ১৫ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার একটি রিফাইনারি স্থাপনে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে।
৮ ফেব্রুয়ারি বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। কার্যপত্রে বলা হয়, এসপিএলের বিদ্যমান ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের ক্ষমতা সাড়ে ছয় লাখ টন। নতুন প্ল্যান্টে বার্ষিক প্রায় ২২ লাখ টন ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব হবে। এতে বছরে প্রায় ৯ লাখ টন ডিজেল, ৫ লাখ টন ফার্নেস অয়েল, ৪ লাখ টন অকটেন এবং বিটুমিনসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদন হবে।
তবে বিপিসির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিলে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-২ (ইআরএল-২) প্রকল্প আবারও ঝুলে যাবে। তারা মনে করছেন, প্রভাবশালী শিল্পগ্রুপগুলো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি প্রকল্প বিলম্বিত করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, “এভাবে রিফাইনারি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর। আগের সরকার ইআরএল-২ এস আলম গ্রুপকে দিয়েছিল, এখন একই কাজ অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে।”
তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রিফাইনারি বেসরকারিকরণের বিষয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিপিসির মিটিংকে তিনি প্রক্রিয়াগত বলে উল্লেখ করেছেন।