ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাতে ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এই জ্বালানি পৌঁছায়।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহনে প্রায় ৬০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পৌঁছানোর পর শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ডিজেলগুলো দেশের প্রধান তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে সরবরাহ করা হয়।
দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলাগুলোতে সেচ কার্যক্রম সচল রাখা এবং ডিজেলচালিত যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই পাইপলাইন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের আমদানি বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই পাইপলাইন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করতে পারবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এরপর গত ১১ মার্চ আরও ৫ হাজার টন এবং সর্বশেষ চালানে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। আগামী সপ্তাহে একই পরিমাণ ডিজেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আগামী চার মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বিপিসি। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।